| বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার | ২০২৬ নির্বাচন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-01-2026 ইং
  • 3360992 বার পঠিত
নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার | ২০২৬ নির্বাচন
ছবির ক্যাপশন: প্রধান উপদেষ্টা

গণতান্ত্রিক উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা হবে ঐতিহাসিক’: সেনাসদরে প্রধান উপদেষ্টা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাসদরের ‘হেলমেট অডিটোরিয়ামে’ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘদিনের ভোটাধিকারবঞ্চিত একটি জাতি ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে, এই নির্বাচনে ভোটদান হবে তার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।”

উৎসবমুখর পরিবেশ ও তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব

ড. ইউনূস তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, এবারের নির্বাচনে তরুণদের একটি বিরাট অংশ প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “তরুণ ভোটার এবং দীর্ঘদিন ভোটাধিকারবঞ্চিত প্রবীণদের জন্য একটি শঙ্কামুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। মাঠপর্যায়ে সশস্ত্র বাহিনীর সামান্য বিচ্যুতিও যেন জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে।”

১৯০০ থেকে ২০২৬: একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে এই নির্বাচনটিকে এক অনন্য প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।

  • ঐতিহাসিক বিবর্তন: ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই এ অঞ্চলের মানুষ শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বিভিন্ন সময়ে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা আলোচিত হয়েছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ২০২৪-এর ফ্যাসিবাদের পতনের পর বর্তমান সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা জাতির ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

  • সক্ষমতা উন্নয়ন: ড. ইউনূস আক্ষেপ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনকালে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা উপেক্ষিত ছিল। বর্তমান সরকার অত্যন্ত অল্প সময়ে বাহিনীর আধুনিকায়ন ও আগ্রাসন মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সেনাসদরে অভ্যর্থনা

প্রধান উপদেষ্টা সেনাসদরে পৌঁছালে তাঁকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এস এম কামরুল হাসান অভ্যর্থনা জানান। সভায় তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামীর বাংলাদেশ ও গণভোট

ড. ইউনূস স্পষ্ট করেন যে, গণভোটের মাধ্যমে মানুষ যেমন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা (জুলাই চার্টার) ঠিক করবে, তেমনি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে অতীতের মতো পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।


সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR)।

বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ, বিশেষ সংবাদ ডেস্ক।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency